ওঁ তৎ সৎ
ওঁ তৎ সৎ
শ্রীমদ্ভগবদগীতা
ত্রয়োদশ অধ্যায়ঃ ক্ষেএ - ক্ষেত্রজ্ঞ - বিভাগযোগ
-------------------------------------------
শ্রীভগবান্ উবাচ
ঋষিভির্বহুধা গীতং ছন্দোভির্বিবিধৈঃ পৃথক্।
ব্রক্ষসূত্রপদৈশ্চৈব হেতুমদ্ভির্বিনিশ্চিতৈঃ।।৫।।
অনুবাদঃ শ্রীভগবান্ বলিলেন- এই ক্ষেএ ও ক্ষেত্রজ্ঞের জ্ঞান ঋষিগণ কর্তৃক বিবিধ বেদবাক্যের দ্বারা পৃথক পৃথকভাবে বর্ণিত হয়েছে। বেদান্তসূত্রে তা বিশেষভাবে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত সহকারে বর্ণিত হয়েছে।
তাৎপর্যঃ এই তত্ত্বজ্ঞান বিশ্লেষণ করার ব্যাপারে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তবুও চিরাচরিত প্রথা অনুসারে, পণ্ডিত ও আর্চাযেরা সর্বদাই পূর্বতন আর্চাযদের নজির দিয়ে থাকেন। আত্মা ও পরমাত্মা সর্ম্পকে অত্যন্ত বির্তকমূলক দ্বৈতবাদ ও অদ্বৈতবাদ ব্যাখা করতে গিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ্য গ্রন্থ বেদান্ত শাস্ত্রের উল্লেখ করেছেন। প্রথমে তিনি বিভিন্ন ঋষিদের মতের উল্লেখ করেছেন। মমস্ত ঋষিদের মধ্যে বেদান্ত- সূত্রের প্রণেতা ব্যাসদেব হচ্ছেন মহর্ষি এবং বেদান্ত- সূত্রে দ্বৈতবাদকে পূর্ণরূপে ব্যাখা করা হয়েছে। ব্যাসদেবের পিতা পরাশর মুনিও ছিলেন একজন মহর্ষি এবং তাঁর প্রণীত ধর্মশাস্ত্রে তিনি লিখেছেন, অহং ত্বং চ তথানো ----- " আমরা, আপনি,আমি এবং অন্য সমস্ত জীব- জড় দেহে থাকলেও জড়াতীত। এখন আমরা আমাদের বিভিন্ন কর্ম অনুসারে জড় জগতের তিনটি গুণের মধ্যে পতিত হয়েছি। তার ফলে, কেউ উচ্চ স্তরে আছে,আবার কেউ নিম্ন স্তরে। অজ্ঞানতার ফলে উচ্চ ও নিম্ন প্রকৃতি বিদ্যমান হয় এবং অগণিত জীবের মধ্যে তা প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু পরমাত্মা, যিনি অচ্যুত, তিনি কখনই তিন গুণের দ্বারা কুলষিত হন না এবং তিনি হচ্ছেন গুণাতীত"। তেমনই, আদি বেদে, বিশেষ করে কঠ উপনিষদে আত্মা, পরমাত্মা ও দেহের পার্থক্য নিরূপণ করা হয়েছে। বহু মুনি-ঋষি এর ব্যাখা করেছেন এবং পরাশর মুনিকে তাঁদের মধ্যে প্রধান বলে গণ্য করা হয়ে থাকে।
ছন্দোভিঃ শব্দটির দ্বারা বিভিন্ন বৈদিক শাস্ত্রাদিকে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, যজুর্বেদের একটি শাখা তৈত্তিরীয় উপনিষদে প্রকৃতি,জীবসত্তা ও পরম পুরুষোত্তম ভগবানের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
আগেই বলা হয়েছে , ক্ষেত্র বলতে বোঝায় কর্মের ক্ষেএ এবং দুই ধরনের ক্ষেএজ্ঞ আছেন -- স্বতন্ত্র জীবাত্মা ও পরম আত্মা। তৈত্তিরীয় উপনিষদে (২/৯) বলা হয়েছে -- ব্রক্ষ পুচ্ছং প্রতিষ্ঠা। পরমেশ্বর ভগবানের ' অন্নময়' নামে একটি শক্তির প্রকাশ হয়,যার ফলে জীব তার জীবন ধারণের জন্য অন্নের উপর নির্ভর করে। এটি পরমেশ্বর সম্বন্ধে একটি জড় উপলব্ধি। তারপর ' প্রাণময়' অর্থাৎ অন্নের মধ্যে পরমেশ্বরকে উপলব্ধি করার পর প্রাণের লক্ষণের মধ্যে তাঁকে উপলব্ধি করা। প্রাণময় লক্ষণের অতীত ' জ্ঞানময়' উপলব্ধি চিন্তা,অনুভূতি ও ইচ্ছা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। তারপর ব্রক্ষ উপলব্ধিকে বলা হয় ' বিজ্ঞানময়' যার ফলে জীবের মন ও প্রাণের লক্ষণগুলি থেকে জীবকে স্বতন্ত্র বলে উপলব্ধি করা যায়। তার পরে পরম স্তর হচ্ছে ' আনন্দময়' অর্থাৎ সর্ব আনন্দময় প্রকৃতির উপলব্ধি।
ত্রয়োদশ অধ্যায়ঃ ক্ষেএ - ক্ষেত্রজ্ঞ - বিভাগযোগব্রক্ষসূত্রপদৈশ্চৈব হেতুমদ্ভির্বিনিশ্চিতৈঃ।।৫।।
অনুবাদঃ শ্রীভগবান্ বলিলেন- এই ক্ষেএ ও ক্ষেত্রজ্ঞের জ্ঞান ঋষিগণ কর্তৃক বিবিধ বেদবাক্যের দ্বারা পৃথক পৃথকভাবে বর্ণিত হয়েছে। বেদান্তসূত্রে তা বিশেষভাবে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত সহকারে বর্ণিত হয়েছে।
তাৎপর্যঃ এই তত্ত্বজ্ঞান বিশ্লেষণ করার ব্যাপারে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তবুও চিরাচরিত প্রথা অনুসারে, পণ্ডিত ও আর্চাযেরা সর্বদাই পূর্বতন আর্চাযদের নজির দিয়ে থাকেন। আত্মা ও পরমাত্মা সর্ম্পকে অত্যন্ত বির্তকমূলক দ্বৈতবাদ ও অদ্বৈতবাদ ব্যাখা করতে গিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ্য গ্রন্থ বেদান্ত শাস্ত্রের উল্লেখ করেছেন। প্রথমে তিনি বিভিন্ন ঋষিদের মতের উল্লেখ করেছেন। মমস্ত ঋষিদের মধ্যে বেদান্ত- সূত্রের প্রণেতা ব্যাসদেব হচ্ছেন মহর্ষি এবং বেদান্ত- সূত্রে দ্বৈতবাদকে পূর্ণরূপে ব্যাখা করা হয়েছে। ব্যাসদেবের পিতা পরাশর মুনিও ছিলেন একজন মহর্ষি এবং তাঁর প্রণীত ধর্মশাস্ত্রে তিনি লিখেছেন, অহং ত্বং চ তথানো ----- " আমরা, আপনি,আমি এবং অন্য সমস্ত জীব- জড় দেহে থাকলেও জড়াতীত। এখন আমরা আমাদের বিভিন্ন কর্ম অনুসারে জড় জগতের তিনটি গুণের মধ্যে পতিত হয়েছি। তার ফলে, কেউ উচ্চ স্তরে আছে,আবার কেউ নিম্ন স্তরে। অজ্ঞানতার ফলে উচ্চ ও নিম্ন প্রকৃতি বিদ্যমান হয় এবং অগণিত জীবের মধ্যে তা প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু পরমাত্মা, যিনি অচ্যুত, তিনি কখনই তিন গুণের দ্বারা কুলষিত হন না এবং তিনি হচ্ছেন গুণাতীত"। তেমনই, আদি বেদে, বিশেষ করে কঠ উপনিষদে আত্মা, পরমাত্মা ও দেহের পার্থক্য নিরূপণ করা হয়েছে। বহু মুনি-ঋষি এর ব্যাখা করেছেন এবং পরাশর মুনিকে তাঁদের মধ্যে প্রধান বলে গণ্য করা হয়ে থাকে।
ছন্দোভিঃ শব্দটির দ্বারা বিভিন্ন বৈদিক শাস্ত্রাদিকে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, যজুর্বেদের একটি শাখা তৈত্তিরীয় উপনিষদে প্রকৃতি,জীবসত্তা ও পরম পুরুষোত্তম ভগবানের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
আগেই বলা হয়েছে , ক্ষেত্র বলতে বোঝায় কর্মের ক্ষেএ এবং দুই ধরনের ক্ষেএজ্ঞ আছেন -- স্বতন্ত্র জীবাত্মা ও পরম আত্মা। তৈত্তিরীয় উপনিষদে (২/৯) বলা হয়েছে -- ব্রক্ষ পুচ্ছং প্রতিষ্ঠা। পরমেশ্বর ভগবানের ' অন্নময়' নামে একটি শক্তির প্রকাশ হয়,যার ফলে জীব তার জীবন ধারণের জন্য অন্নের উপর নির্ভর করে। এটি পরমেশ্বর সম্বন্ধে একটি জড় উপলব্ধি। তারপর ' প্রাণময়' অর্থাৎ অন্নের মধ্যে পরমেশ্বরকে উপলব্ধি করার পর প্রাণের লক্ষণের মধ্যে তাঁকে উপলব্ধি করা। প্রাণময় লক্ষণের অতীত ' জ্ঞানময়' উপলব্ধি চিন্তা,অনুভূতি ও ইচ্ছা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। তারপর ব্রক্ষ উপলব্ধিকে বলা হয় ' বিজ্ঞানময়' যার ফলে জীবের মন ও প্রাণের লক্ষণগুলি থেকে জীবকে স্বতন্ত্র বলে উপলব্ধি করা যায়। তার পরে পরম স্তর হচ্ছে ' আনন্দময়' অর্থাৎ সর্ব আনন্দময় প্রকৃতির উপলব্ধি।
-------------------------------------------
শ্রীভগবান্ উবাচ
ঋষিভির্বহুধা গীতং ছন্দোভির্বিবিধৈঃ পৃথক্।
ব্রক্ষসূত্রপদৈশ্চৈব হেতুমদ্ভির্বিনিশ্চিতৈঃ।।৫।।
অনুবাদঃ শ্রীভগবান্ বলিলেন- এই ক্ষেএ ও ক্ষেত্রজ্ঞের জ্ঞান ঋষিগণ কর্তৃক বিবিধ বেদবাক্যের দ্বারা পৃথক পৃথকভাবে বর্ণিত হয়েছে। বেদান্তসূত্রে তা বিশেষভাবে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত সহকারে বর্ণিত হয়েছে।
তাৎপর্যঃ এই তত্ত্বজ্ঞান বিশ্লেষণ করার ব্যাপারে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তবুও চিরাচরিত প্রথা অনুসারে, পণ্ডিত ও আর্চাযেরা সর্বদাই পূর্বতন আর্চাযদের নজির দিয়ে থাকেন। আত্মা ও পরমাত্মা সর্ম্পকে অত্যন্ত বির্তকমূলক দ্বৈতবাদ ও অদ্বৈতবাদ ব্যাখা করতে গিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ্য গ্রন্থ বেদান্ত শাস্ত্রের উল্লেখ করেছেন। প্রথমে তিনি বিভিন্ন ঋষিদের মতের উল্লেখ করেছেন। মমস্ত ঋষিদের মধ্যে বেদান্ত- সূত্রের প্রণেতা ব্যাসদেব হচ্ছেন মহর্ষি এবং বেদান্ত- সূত্রে দ্বৈতবাদকে পূর্ণরূপে ব্যাখা করা হয়েছে। ব্যাসদেবের পিতা পরাশর মুনিও ছিলেন একজন মহর্ষি এবং তাঁর প্রণীত ধর্মশাস্ত্রে তিনি লিখেছেন, অহং ত্বং চ তথানো ----- " আমরা, আপনি,আমি এবং অন্য সমস্ত জীব- জড় দেহে থাকলেও জড়াতীত। এখন আমরা আমাদের বিভিন্ন কর্ম অনুসারে জড় জগতের তিনটি গুণের মধ্যে পতিত হয়েছি। তার ফলে, কেউ উচ্চ স্তরে আছে,আবার কেউ নিম্ন স্তরে। অজ্ঞানতার ফলে উচ্চ ও নিম্ন প্রকৃতি বিদ্যমান হয় এবং অগণিত জীবের মধ্যে তা প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু পরমাত্মা, যিনি অচ্যুত, তিনি কখনই তিন গুণের দ্বারা কুলষিত হন না এবং তিনি হচ্ছেন গুণাতীত"। তেমনই, আদি বেদে, বিশেষ করে কঠ উপনিষদে আত্মা, পরমাত্মা ও দেহের পার্থক্য নিরূপণ করা হয়েছে। বহু মুনি-ঋষি এর ব্যাখা করেছেন এবং পরাশর মুনিকে তাঁদের মধ্যে প্রধান বলে গণ্য করা হয়ে থাকে।
ছন্দোভিঃ শব্দটির দ্বারা বিভিন্ন বৈদিক শাস্ত্রাদিকে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, যজুর্বেদের একটি শাখা তৈত্তিরীয় উপনিষদে প্রকৃতি,জীবসত্তা ও পরম পুরুষোত্তম ভগবানের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
আগেই বলা হয়েছে , ক্ষেত্র বলতে বোঝায় কর্মের ক্ষেএ এবং দুই ধরনের ক্ষেএজ্ঞ আছেন -- স্বতন্ত্র জীবাত্মা ও পরম আত্মা। তৈত্তিরীয় উপনিষদে (২/৯) বলা হয়েছে -- ব্রক্ষ পুচ্ছং প্রতিষ্ঠা। পরমেশ্বর ভগবানের ' অন্নময়' নামে একটি শক্তির প্রকাশ হয়,যার ফলে জীব তার জীবন ধারণের জন্য অন্নের উপর নির্ভর করে। এটি পরমেশ্বর সম্বন্ধে একটি জড় উপলব্ধি। তারপর ' প্রাণময়' অর্থাৎ অন্নের মধ্যে পরমেশ্বরকে উপলব্ধি করার পর প্রাণের লক্ষণের মধ্যে তাঁকে উপলব্ধি করা। প্রাণময় লক্ষণের অতীত ' জ্ঞানময়' উপলব্ধি চিন্তা,অনুভূতি ও ইচ্ছা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। তারপর ব্রক্ষ উপলব্ধিকে বলা হয় ' বিজ্ঞানময়' যার ফলে জীবের মন ও প্রাণের লক্ষণগুলি থেকে জীবকে স্বতন্ত্র বলে উপলব্ধি করা যায়। তার পরে পরম স্তর হচ্ছে ' আনন্দময়' অর্থাৎ সর্ব আনন্দময় প্রকৃতির উপলব্ধি।
ব্রক্ষসূত্রপদৈশ্চৈব হেতুমদ্ভির্বিনিশ্চিতৈঃ।।৫।।
অনুবাদঃ শ্রীভগবান্ বলিলেন- এই ক্ষেএ ও ক্ষেত্রজ্ঞের জ্ঞান ঋষিগণ কর্তৃক বিবিধ বেদবাক্যের দ্বারা পৃথক পৃথকভাবে বর্ণিত হয়েছে। বেদান্তসূত্রে তা বিশেষভাবে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত সহকারে বর্ণিত হয়েছে।
তাৎপর্যঃ এই তত্ত্বজ্ঞান বিশ্লেষণ করার ব্যাপারে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তবুও চিরাচরিত প্রথা অনুসারে, পণ্ডিত ও আর্চাযেরা সর্বদাই পূর্বতন আর্চাযদের নজির দিয়ে থাকেন। আত্মা ও পরমাত্মা সর্ম্পকে অত্যন্ত বির্তকমূলক দ্বৈতবাদ ও অদ্বৈতবাদ ব্যাখা করতে গিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ্য গ্রন্থ বেদান্ত শাস্ত্রের উল্লেখ করেছেন। প্রথমে তিনি বিভিন্ন ঋষিদের মতের উল্লেখ করেছেন। মমস্ত ঋষিদের মধ্যে বেদান্ত- সূত্রের প্রণেতা ব্যাসদেব হচ্ছেন মহর্ষি এবং বেদান্ত- সূত্রে দ্বৈতবাদকে পূর্ণরূপে ব্যাখা করা হয়েছে। ব্যাসদেবের পিতা পরাশর মুনিও ছিলেন একজন মহর্ষি এবং তাঁর প্রণীত ধর্মশাস্ত্রে তিনি লিখেছেন, অহং ত্বং চ তথানো ----- " আমরা, আপনি,আমি এবং অন্য সমস্ত জীব- জড় দেহে থাকলেও জড়াতীত। এখন আমরা আমাদের বিভিন্ন কর্ম অনুসারে জড় জগতের তিনটি গুণের মধ্যে পতিত হয়েছি। তার ফলে, কেউ উচ্চ স্তরে আছে,আবার কেউ নিম্ন স্তরে। অজ্ঞানতার ফলে উচ্চ ও নিম্ন প্রকৃতি বিদ্যমান হয় এবং অগণিত জীবের মধ্যে তা প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু পরমাত্মা, যিনি অচ্যুত, তিনি কখনই তিন গুণের দ্বারা কুলষিত হন না এবং তিনি হচ্ছেন গুণাতীত"। তেমনই, আদি বেদে, বিশেষ করে কঠ উপনিষদে আত্মা, পরমাত্মা ও দেহের পার্থক্য নিরূপণ করা হয়েছে। বহু মুনি-ঋষি এর ব্যাখা করেছেন এবং পরাশর মুনিকে তাঁদের মধ্যে প্রধান বলে গণ্য করা হয়ে থাকে।
ছন্দোভিঃ শব্দটির দ্বারা বিভিন্ন বৈদিক শাস্ত্রাদিকে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, যজুর্বেদের একটি শাখা তৈত্তিরীয় উপনিষদে প্রকৃতি,জীবসত্তা ও পরম পুরুষোত্তম ভগবানের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
আগেই বলা হয়েছে , ক্ষেত্র বলতে বোঝায় কর্মের ক্ষেএ এবং দুই ধরনের ক্ষেএজ্ঞ আছেন -- স্বতন্ত্র জীবাত্মা ও পরম আত্মা। তৈত্তিরীয় উপনিষদে (২/৯) বলা হয়েছে -- ব্রক্ষ পুচ্ছং প্রতিষ্ঠা। পরমেশ্বর ভগবানের ' অন্নময়' নামে একটি শক্তির প্রকাশ হয়,যার ফলে জীব তার জীবন ধারণের জন্য অন্নের উপর নির্ভর করে। এটি পরমেশ্বর সম্বন্ধে একটি জড় উপলব্ধি। তারপর ' প্রাণময়' অর্থাৎ অন্নের মধ্যে পরমেশ্বরকে উপলব্ধি করার পর প্রাণের লক্ষণের মধ্যে তাঁকে উপলব্ধি করা। প্রাণময় লক্ষণের অতীত ' জ্ঞানময়' উপলব্ধি চিন্তা,অনুভূতি ও ইচ্ছা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। তারপর ব্রক্ষ উপলব্ধিকে বলা হয় ' বিজ্ঞানময়' যার ফলে জীবের মন ও প্রাণের লক্ষণগুলি থেকে জীবকে স্বতন্ত্র বলে উপলব্ধি করা যায়। তার পরে পরম স্তর হচ্ছে ' আনন্দময়' অর্থাৎ সর্ব আনন্দময় প্রকৃতির উপলব্ধি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন