প্রকৃতির মূল সত্তা

যে সমস্ত বর্তমান সাধক প্রকৃতি বিনা সাধনা করেন, তাঁরা বলেন— সমস্ত রসের ভিতর শৃঙ্গার রসই শ্রেষ্ঠ এবং প্রকৃতি হল শৃঙ্গের রসের আধার। শৃঙ্গার রসমাধুর্যের মধ্যে প্রকৃতির মূল সত্তাটি নিহিত রয়েছে এবং লীলাবিলাস বা আনন্দ প্রকৃতি আশ্রয় করেই হয়ে থাকে। সেইহেতু প্রকৃতি একাধারে জননী এবং রমণী। সুতরাং প্রকৃতিতে মাতৃভাব আরোপ করেও ঠিক ঐ একই ভাবে চরম অবস্থায় উপনীত হওয়া যায় এবং ব্যভিচারেরও কোন সম্ভাবনা থাকে না। অধিকারী বিশেষে সাধক মাতৃভাবে বিভোর হয়ে যৌনপ্রীতি বর্জিত হয়ে অতি সহজেই ঊর্ধ্বরেতা অবস্থা লাভ করতে পারেন। আর তা ঐ সাধকদের নিকট কোন সমস্যাই নয়। এই প্রসঙ্গে একটা পদ মনে পড়েছে, পদটি শোন— তাহলেই বুঝতে পারবে—‘জননী-মন্দিরে প্রবেশি দেখিনু/ কহিতে না মানি বাধা,/ শ্যামা হল শ্যাম চরণের শিব/ উঠিয়া হইল রাধা।’
সুতরাং এখন নিশ্চয় বুঝতে পারলে যে, বাৎসল্য রস এবং মধুর রস মুখ্যতঃ একই। বাৎসল্য রসে সামান্য যৌনপ্রীতি যোগ করলেই তা মধুর রসে পরিণত হয়। বাউলগণ বলেন ঊর্ধ্বরেতা হতে হলে যে প্রকৃতি-সঙ্গ করতে হবে এমন কোন কারণ নেই। প্রকৃতির সঙ্গ বিনা অনায়াসে ঐ অবস্থায় উপনীত হওয়া সম্ভব। কিন্তু সর্বাপেক্ষা বড় সমস্যা হল—রসের পূর্ণ কলসী হতে রস ঢেলে অর্থাৎ প্রকৃতির সঙ্গে যৌনপ্রীতি বর্জন করে কেমন করে সহজে ঐ রস আস্বাদন করা যায়! সাধকের জীবনে এটা অপেক্ষা বড় সমস্যা আর দ্বিতীয় নেই। উপমাস্বরূপ বলা যেতে পারে—মাকড়সার জালের উপর দিয়ে একটা প্রমত্ত ঘোড়াকে ছুটিয়ে নিয়ে চলার মতো ভয়ঙ্কর অবস্থা অথবা একটা সূতার উপর দিয়ে একটা মত্ত হস্তীকে নিয়ে যাবার মতো বিপদসঙ্কুল পরিস্থিতি। এই সমস্যা বা বিপদ যে কোন প্রকার সাধকের পক্ষেই হওয়া সম্ভব— তা তিনি প্রকৃতি নিয়েই সাধনা করুন বা প্রকৃতি বর্জিত হয়ে এককভাবেই সাধনা করুন। উভয়ের পক্ষেই এটা বিপদসঙ্কুল পরিস্থিতি।
সেইজন্য বাউলগণ বলেন—রসিক ভিন্ন এই শৃঙ্গার রসের অপরোক্ষ অনুভব করার সামর্থ্য অন্য কারও নেই।
সহজিয়া বৈষ্ণবগণ শৃঙ্গার রসকে আট প্রকারে বিভক্ত করে বিশ্লেষণ করেছেন, এগুলি হল যথাক্রমে— দর্শন, স্পর্শন, কেলি, কীর্তন, গুহ্যভাষণ, সংকল্প, আসক্তি (তীব্র মিলনাকাঙ্ক্ষা) ও মিলন (সম্ভোগ)।
যাঁরা প্রকৃতি নিয়ে সাধনা করেন, তাঁরা এগুলি স্থূলভাবে গ্রহণ করে থাকেন এবং যাঁরা প্রকৃতি বর্জিত হয়ে এককভাবে সাধনা করেন, তাঁরা এগুলি অন্তর ভাবের পরিচর্যার দ্বারা পরিপুষ্টি বিধান করে থাকেন। পরিপূর্ণ অবস্থায় অষ্টপ্রহর শৃঙ্গার রসমাধুর্যে নিমজ্জিত থাকেন। বৈষ্ণবগণ বলেন—শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু রায় রামানন্দের সহিত এইরূপ ভাবেতে শৃঙ্গার রস অনুভব করতেন। এই শৃঙ্গার রস হল অনাবিল, অফুরন্ত এবং অনন্ত বৈচিত্র্যের উৎসে ভরা। আর এই রসের সন্ধান যিনি পেয়েছেন তিনি হলেন রসিক। তিনি তখন দেখতে পান— সমস্ত চরাচর—বিশ্বের ভিতরে এবং বাইরে ঐ শৃঙ্গার রসের মেলা বসেছে এবং সমগ্র বিশ্বপ্রকৃতিতে ঐ অফুরন্ত মাধুর্যরস অনাবিল উল্লাসে স্ফূর্তিপ্রাপ্ত হচ্ছে।
সুতরাং এখন নিশ্চয় বুঝতে পারলে যে, বাৎসল্য রস এবং মধুর রস মুখ্যতঃ একই। বাৎসল্য রসে সামান্য যৌনপ্রীতি যোগ করলেই তা মধুর রসে পরিণত হয়। বাউলগণ বলেন ঊর্ধ্বরেতা হতে হলে যে প্রকৃতি-সঙ্গ করতে হবে এমন কোন কারণ নেই। প্রকৃতির সঙ্গ বিনা অনায়াসে ঐ অবস্থায় উপনীত হওয়া সম্ভব। কিন্তু সর্বাপেক্ষা বড় সমস্যা হল—রসের পূর্ণ কলসী হতে রস ঢেলে অর্থাৎ প্রকৃতির সঙ্গে যৌনপ্রীতি বর্জন করে কেমন করে সহজে ঐ রস আস্বাদন করা যায়! সাধকের জীবনে এটা অপেক্ষা বড় সমস্যা আর দ্বিতীয় নেই। উপমাস্বরূপ বলা যেতে পারে—মাকড়সার জালের উপর দিয়ে একটা প্রমত্ত ঘোড়াকে ছুটিয়ে নিয়ে চলার মতো ভয়ঙ্কর অবস্থা অথবা একটা সূতার উপর দিয়ে একটা মত্ত হস্তীকে নিয়ে যাবার মতো বিপদসঙ্কুল পরিস্থিতি। এই সমস্যা বা বিপদ যে কোন প্রকার সাধকের পক্ষেই হওয়া সম্ভব— তা তিনি প্রকৃতি নিয়েই সাধনা করুন বা প্রকৃতি বর্জিত হয়ে এককভাবেই সাধনা করুন। উভয়ের পক্ষেই এটা বিপদসঙ্কুল পরিস্থিতি।
সেইজন্য বাউলগণ বলেন—রসিক ভিন্ন এই শৃঙ্গার রসের অপরোক্ষ অনুভব করার সামর্থ্য অন্য কারও নেই।
সহজিয়া বৈষ্ণবগণ শৃঙ্গার রসকে আট প্রকারে বিভক্ত করে বিশ্লেষণ করেছেন, এগুলি হল যথাক্রমে— দর্শন, স্পর্শন, কেলি, কীর্তন, গুহ্যভাষণ, সংকল্প, আসক্তি (তীব্র মিলনাকাঙ্ক্ষা) ও মিলন (সম্ভোগ)।
যাঁরা প্রকৃতি নিয়ে সাধনা করেন, তাঁরা এগুলি স্থূলভাবে গ্রহণ করে থাকেন এবং যাঁরা প্রকৃতি বর্জিত হয়ে এককভাবে সাধনা করেন, তাঁরা এগুলি অন্তর ভাবের পরিচর্যার দ্বারা পরিপুষ্টি বিধান করে থাকেন। পরিপূর্ণ অবস্থায় অষ্টপ্রহর শৃঙ্গার রসমাধুর্যে নিমজ্জিত থাকেন। বৈষ্ণবগণ বলেন—শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু রায় রামানন্দের সহিত এইরূপ ভাবেতে শৃঙ্গার রস অনুভব করতেন। এই শৃঙ্গার রস হল অনাবিল, অফুরন্ত এবং অনন্ত বৈচিত্র্যের উৎসে ভরা। আর এই রসের সন্ধান যিনি পেয়েছেন তিনি হলেন রসিক। তিনি তখন দেখতে পান— সমস্ত চরাচর—বিশ্বের ভিতরে এবং বাইরে ঐ শৃঙ্গার রসের মেলা বসেছে এবং সমগ্র বিশ্বপ্রকৃতিতে ঐ অফুরন্ত মাধুর্যরস অনাবিল উল্লাসে স্ফূর্তিপ্রাপ্ত হচ্ছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন