ধর্ম : ভূতনাথ ভগবান শিবের অতি সুন্দরতম নামগুলোর একটি। আমরা জানি পঞ্চভূতের কথা। পঞ্চভূত তথা পাঁচ প্রকার বস্তু দিয়ে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের রচনা। কোন কোন সৃষ্টি আছে কেবল মৃত্তিকাই প্রধান উপাদান দিয়ে তৈরি।
আবার কিছু সৃষ্টি যেমন ভূত-প্রেত, অসুর কিংবা দেবতারা হয় অগ্নি বা বায়ু প্রধান উপাদানে তৈরি। ভগবান শিব এই পাঁচ উপাদানের জন্মদাতা এবং নিয়ন্ত্রক। এর অর্থ হলো, যত সৃষ্টি আছে সবকিছুরই জন্মদাতা এবং মহানিয়ন্ত্রক হলেন ভগবান শিব। হতে পারে তা মানুষ, আধা-মানুষ, ভূত, প্রেত, পিশাচ,দেবতা, গন্ধর্ব, অসুর। তিনি সবকিছুরই পিতা। ভূত-প্রেত তাঁর গণ, এজন্যে তাঁর আরেক নাম ভূতেশ্বর। বা ভূত-প্রেতদেরও ঈশ্বর। ভগবান শিবের আরেকটি সুন্দরনাম হচ্ছে অনাথনাথ।অনাথ অর্থ হচ্ছে যার কেউ নেই, যে অন্যদেবদেবীর কাছ থেকে কোন সহায়তা পাচ্ছে না যেমন (ব্রহ্মা, বিষ্ণু, ইন্দ্র, অগ্নি ইত্যাদি)। অন্য যেকোন দেবদেবী কাউকে প্রত্যাখ্যান করলে কিংবা বর দান না করলেও ভগবান শিব ঠিকই তাঁকে গ্রহণ করেন। যার কেউই নেই তাঁর ত্রাণকর্তারুপে ভগবান শিব আছেন। তিনি মানব,দানব, ধার্মিক, অধার্মিক, সুর-অসুর, রাক্ষস, প্রেত সবারই ঈশ্বর। সকলই তাঁর থেকে উদ্ভব। এজন্যে তিনি সবাইকেই গ্রহণ করেন। তাঁর কাছে ছোটবড় কেউ নেই। এজন্যেই পৃথিবীতে বেশিরভাগ অসুরই ভগবান শিবের কাছ থেকে বর পেয়েছে এবং ভগবান শ্রী বিষ্ণুকে অবতার ধারণ করে তাদের হত্যা করে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সাম্যাবস্থা বজায় রাখতে হয়েছে।
ভগবান শিব যে কাউকেই নিজের পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। কোন ভেদাভেদ নেই। যেকোন প্রাণী ভগবান শিবের আরাধনা করলে তিনি তাকে গ্রহণ করেন এবং রক্ষা করেন।
রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
ভগবান শিবকে ভূতনাথ বা অনাথনাথ বলা হয় কেনো?
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন