সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৭

মালয়েশিয়ার ডাকটিকেট স্বামী বিবেকানন্দ

মালয়েশিয়ার সরকার এই ডাকটিকেট প্রচলন করেছে ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণের প্রধান পার্ষদ স্বামী বিবেকানন্দ জীর আবির্ভাবের সার্ধশতবর্ষে স্বামীজির প্রতি তাদের শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ ।

প্রশ্নঃ পড়ার পূর্বে বেদের কোন মন্ত্র পাঠ করতে হয় ?

উত্তরঃ ওঁ মেধাং মে বরুনো দদাতি মেধাগ্নিঃ প্রজাপতিঃ। মেধামিন্দ্রশ্চ বায়ুশ্চ মেধাং ধাতা দদাতি মে স্বাহা।। যজুর্বেদ ৩২.১৫ অনুবাদ- হে প্রকাশমান,প্রজা পালক প্রভু,আমি যেন মেধা প্রাপ্ত হই,মেধাবুদ্ধি ধারন করতে সক্ষম হই। হে সর্বব্যপক পরমাত্মা,আমি যেন চরাচর জগতের সত্য- অসত্য বিচারের বিবেকযোগ্য বুদ্ধি ও মেধা প্রাপ্ত হই।

প্রশ্নঃ নমস্কার কি? নমস্কার কি সকলকে জানানো যায়? নমস্কার জানাতে হাত জোড় করা হয় কেন?


প্রশ্নঃ নমস্কার কি? নমস্কার কি সকলকে জানানো যায়? নমস্কার জানাতে হাত জোড় করা হয় কেন? (শেয়ার করে অন্যদের জানতে সাহায্য করুন) উত্তর্ঃ ১>নমস্কার বা নমস্তুতেবাঃ সংক্ষেপে নমস্তে হচ্ছে বৈদিক হতে প্রচলিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কর্তৃক ব্যবহৃত অভিবাদনসূচক শব্দ। সাধারণত দুই হাত জোড় করে 'নমস্কার' শব্দটি উচ্চারণ করা হয়ে থাকে বলে একে অঞ্জলি মুদ্রা বা প্রণ বলা হয়। 'নমস্কার' শব্দটি এসেছে মূল সংস্কৃত শব্দ 'নমঃ'থেকে যার আভিধানিক অর্থ সম্মানজ্ঞাপনপূর ্বক অবনত হওয়া। ২>ইদানিং সনাতন ধর্ম বিরোধী নানা কুপ্রচারণার অংশ হিসেবে একশ্রেণীর কুচক্রী মহল প্রচার করে চলেছে যে , যেহেতু,নমস্কার শব্দটি অবনত হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট তাই সাধারণ জনগণকে নমস্কার জানানো উচিত নয় । দেখা যাক,এ সম্পর্কে বৈদিক শাস্ত্র কি বলে ! "যো দেবো অগ্নৌ যো অপসু যো বিশ্বং ভূবনাবিবেশ য ওষধীষু যো বনস্পতি তস্মৈ দেবায় নমো নমঃ॥"(শ্বেতাশ্ব তর উপনিষদ ২-১৭) "যোগ যেমন পরমাত্মার দর্শনের সাধন বা উপায় ,নমস্কারাদিও অনুরূপ বলিয়া তাঁহাকে নমস্কার জানাই।'' তিনি কিরুপে?তিনি দেব অর্থাত্ পরমাত্মার প্রকাশভাব । তিনি কোথায়? তিনি আছেন অগ্নিতে,জলে,তৃণ - লতাদিতে, অশ্বাথাদি বৃক্ষে,তিনি এই বিশ্বভুবনে অন্তর্যামীরুপে অণুপ্রবিষ্ট হইয়া আছেন।" তাই যখন কাউকে নমস্কার জানানো হয় তখন মূলত সর্বজীবে অন্তর্যামীরুপে অবস্থিত পরমাত্মাকেই প্রণতি নিবেদন করা হয় ,কোন মনুষ্যদেহকে নয় । সুতরাং,নমস্কার সকলকেই জানানো যায়। ৩>দুইহাত জোড় মূলত অহম্ ত্যাগ পূর্বক বিনয়ভাব প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। সংস্কৃতিভেদে করজোড়ে কিছুটা বৈচিত্র্য দেখা যায় যেমন দেবতাদের উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করতে সাধকরা মাথার উপরে দু'হাত জোড় করে থাকেআবার কোন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতে নমস্কার জানাতে বুকের বরাবর হাত জোড় করা একই সাথে পরমাত্মাকে প্রণতি ও আয়ুষ্মান (i.e.দীর্ঘায়ু কামনা) -কে নির্দেশ করে। নমস্কার, নমস্ক্রিয়া [ namaskāra, namaskriẏā ] বি. ১. প্রণাম; ২. যুক্তকর কপালে ঠেকিয়ে অভিবাদন। [সং. নমস্ + √ কৃ + অ, নমস্ + √ কৃ + অ + আ]। নমস্কার সবাইকে। আপনারা চাইলে আর ও তথ্য যোগ করতে পারেন।

◄○কলিযুগ○►



কলিযুগের ব্যাপ্তিকাল ৪লক্ষ ৩২হাজার বছর । খ্রীস্টপূর্ব ৩১০১ এ কলিযুগের আরম্ভ হয় । বর্তমানে এযুগের ৫১১৩ বছর চলছে । দ্বাপরের অবসানে ব্রহ্মার পৃষ্ঠদেশ হতে অধর্মের সৃষ্টি হয় । কলিযুগের অবতার সমূহ- •১→ বুদ্ধ অবতার । আশ্বিন মাসের শুক্লা দশমী তিথিতে জন্মগ্রহন করেন । •২→ কল্কি অবতার । (কল্কি অবতার কলিযুগের অন্তে মানে শেষের দিকে আর্বিভাব ঘটবে ।শম্ভল গ্রামে (মোরাদাবাদ জেলায় ) সুমতি নামে ব্রাহ্মণ কন্যার গর্ভে , বিষ্ণুযশা নামে ব্রাহ্মণের বাড়িতে , কল্কি নামে ভগবান বিষ্ণুর দশম অবতারের আর্বিভাব ঘটবে । কল্কি হবে বিষ্ণুযশা-সুমতির চতুর্থ সন্তান । বিষ্ণুযশা-সুমতির প্রথম তিন সন্তানের নাম হবে যথাক্রমে কবি, প্রাজ্ঞ আর সুমন্তক ।) ▓ কলিযুগের বৈশিষ্ট্যসমূহ ▓ ☯ কলিযুগের তিনপাদ অর্থাত্‍ চারভাগের তিন ভাগ অধর্ম ও একপাদ বা চারভাগের একভাগ মাত্র ধর্ম পালন করে । ☯ কলিযুগের আয়ুষ্কাল ১০০বছর। ☯ মহারাজ পরীক্ষিতের সময় কলিযুগের শুরু হয়। ☯ ভাগবতে বলা আছে ছলনা মিথ্যা আলস্য নিদ্রা হিংসা দুঃখ শোক ভয় দীনতা প্রভৃতি হবে এযুগের বৈশিষ্ট। ☯ বিষ্ণু পুরাণ মতে কম ধনের অধিকারী হয়ে মানুষ এ যুগে বেশী গর্ব করবে ।ধর্মের জন্য অর্থ খচর করবে না । ☯ ধর্মগ্রন্থের প্রতি মানুষের আর্কষন থাকবে না । ☯ মাতাপিতাকে মানবে না । পুত্র পিতৃহত্যা বা পিতা পুত্র হত্যা করতে কুন্ঠিত হবে না । ☯ কলিযুগের প্রধান গুন হচ্ছে মানুষ কম পরিশ্রমে বেশী পূণ্য অর্জন করবে । ☯ দান করাই হবে কলিযুগের শ্রেষ্ঠ ধর্ম । ☯ চৈতন্য মহাপ্রভুর মতে হরিনাম সংকীর্তনই হবে কলিযুগের একমাত্র ধর্ম । ☯ বিষ্ণু পুরাণ (৬/১/৮) এর মতে- • মানুষ বৈদিক ক্রিয়া আচার সমূহ করবে না । • ধর্মানুসারে কেউ বিবাহিত থাকবে না । • স্ত্রীলোকরা কেবল চুলের বাহদুরী করেই নিজেকে সুন্দরী বলে মনে করবে । • ধনহীন পতিকে স্ত্রীরা ত্যাগ করবে । আর ধনবান পুরুষরা সেই স্ত্রীগণের স্বামী হবে ।। • কলিযুগে ধর্মের জন্য ব্যয় না করে কেবল গৃহাদি নির্মাণে অর্থ ব্যয় করবে । • মানুষ পরকালের চিন্তা না করে কেবল অর্থ উর্পাজনের চিন্তাতেই নিরন্তর নিমগ্ন থাকবে । • কলিযুগে নারীরা সাধারনতঃ স্বেচ্ছাচারিণী ও বিলাস উপকরণে অতিশয় অনুরাগিণী হবে এবং পুরুষরা অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জন করতে অভিলাষী হবে । • সুহ্বদদের প্রার্থনাতে মানুষ নিজের অনুমাত্র স্বার্থ পরিত্যাগ করবেনা । • অসমর্থ মানুষরা ধনহীন হয়ে নিরন্তর দুর্ভিক্ষ ও ক্লেশ ভোগ করবে । • কলিকালে মানুষ স্নান না করে ভোজন করবে । • কলিকালে স্ত্রীলোকরা নিতান্তই লোভী হবে , বহু ভোজনশীল হবে । • স্ত্রীরা দুহাতে মাথা চুলকাতে চুলকাতে অনায়াসে পতি আজ্ঞা অবহেলা করবে । নিজের দেহ পোষণে ব্যস্ত থাকবে , নিরন্তন কঠোর ও মিথ্যা বাক্য বলবে । • আচারহীন ব্রাহ্মণপুত্ররা ব্রহ্মচারীর বেশ ধারন বেদ অধ্যয়ন করবে । • গৃস্থরা হোমাদি করবেন না এবং উচিত দানসমূহও প্রদান করবেন । • মানুষ অশাস্ত্রীয় তপস্যা করবে । • কলি কালে ৮থেকে ১০বছরের বালকেরা সহবাসে ৫থেকে ৭বছর বয়সের বালিকারা সন্তান প্রসব করবে । • মানুষ সর্বোচ্চ ২০ বছর বাঁচবে । • কলিকালে মানুষের বুদ্ধি অতি অল্প ,তাঁদের ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি অতিশয় কুত্‍ সিত ,তাদের অন্তকরণ অতিশয় অপবিত্র হবে । আর অল্প কালেই বিনাশ লাভ করবে । • • যখন পাষন্ড লোকের প্রভাব অত্যন্ত বাড়বে , তখন সমাজের ভালো লোক কোন দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থাকবে না । সজ্জনের হানি লক্ষিত হবে । • অল্প বৃষ্টি হবে, কলিকালে ফসল কম হবে । • কলিকালে মানুষ শ্বশুরের অনুগত হয়ে, কার মাতা কার পিতা এরকম কথা বলবে । • সুন্দরী স্ত্রী যার তার সাথে বন্ধুত্ব হবে , নিজ ভাইয়ের সাথে শত্রুভাব পোষন করবে ।

মনুসংহিতায় নারীর মর্যাদা সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?


প্রশ্ন: ৪২ উত্তর: অনেকে অভিযোগ করেন, মনুসংহিতা সামগ্রিকরূপে একটি নারীবিরোধী শাস্ত্র। স্মরণ রাখা প্রয়োজন, পণ্ডিত ও বিদ্বান সমাজ একথা বহুবার স্বীকার করেছেন যে, মনুসংহিতা নামক স্মৃতিশাস্ত্রটি তে বহু প্রক্ষিপ্ত অংশ রয়েছে। এর মানে এই যে, জাতিগত বা সময়গত বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্যে এই পবিত্র গ্রন্থটিতে অনেক কাঁটাছেঁড়া করা হয়েছে। শ্লোক রচনার গঠন রীতির আধুনিকতা ও প্রাচীনতা বিবেচনা করে এই জাল শ্লোকগুলো আলাদা করা খুব কঠিন কিছু নয়। আদি মনুসংহিতা শাস্ত্রটি অধ্যয়ন করলে যে কেউ গর্বভরে দাবি করতে পারবেন যে, পৃথিবীতে নারীকে মর্যাদা দানে মহর্ষি মনুর মতো এতো চমৎকার সব বিধান আর কোন ধর্মনেতা কোন কালেই প্রদান করেননি। এমনকি মনুসংহিতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হলে অনেক ক্ষেত্রে আধুনিক নারীবাদীদের চিন্তাধারারও উন্নয়নের প্রয়োজন। এখানে অত্যন্ত সংক্ষেপে মনুস্মৃতির আলোকে বিষয়টা আলোচনা করা হলো। আমরা এখন এমন একটি শ্লোক পড়ব যার অর্থ দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করে যে নারীরাই হচ্ছে কোন উন্নত সমাজের ভিত্তিস্বরূপ। এটি মনুসংহিতার তৃতীয় অধ্যায়ের (ধর্মসংস্কার প্রকরণ) শ্লোকঃ যত্র নার্য্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ। যত্রৈতাস্তু ন পূজ্যন্তে সর্বাস্তত্রাফলা ঃ ক্রিয়াঃ।। (মনুসংহিতা ৩/৫৬) অর্থাৎ “যে সমাজে নারীদের যথাযথ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা হয় সেই সমাজ উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করে। আর যারা নারীদের যোগ্য সম্মান করে না, তারা যতই মহৎ কর্ম করুক না কেন, তার সবই নিষ্ফল হয়ে যায়।” এটি নারীদের প্রতি কোন চাটুকারিতা বা তোষামদি নয়। এটি এমন একটি সত্য যা নারীবিদ্বেষীদের কাছে বিষের মতো, আর নারীশক্তির মহিমা কীর্তনীয়াদের কাছে অমৃতস্বরূপ। প্রকৃতির এই নিয়ম পরিবার, সমাজ, ধর্মগোষ্ঠী, জাতি বা সমগ্র মানবতার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য। যারা মনুস্মৃতিকে দোষারোপ করেন, তারা কখনোই এই শ্লোকের উদ্ধৃতি দেন না। উদ্দেশ্যপ্রণোদি তভাবে শুধুমাত্র হিন্দুধর্ম সম্পর্কে কুৎসা প্রচারই তাদের একমাত্র কাজ। নিরপেক্ষ বিচার তাদের কাছে নেই। যেমন নিচের চমৎকার শ্লোকগুলোর কথা কোন ব্লগার বা হিন্দুধর্মের সমালোচক উল্লেখ করেন না: “একজন পিতা, ভাই, পতি বা দেবর তাদের কন্যা, বোন, স্ত্রী বা ভ্রাতৃবধুকে মৃদুবাক্য, ভদ্র ব্যবহার ও উপহারাদি দ্বারা খুশি ও সন্তুষ্ট রাখবেন। যারা যথার্থ কল্যাণ ও উন্নতি চান, তারা নিশ্চিত করবেন যে, তাদের পরিবারের নারীরা যাতে সর্বদা খুশী থাকেন এবং কখনো দুর্দশা ভোগ না করেন”। (মনুসংহিতা ৩/৫৫) “যে বংশে ভগিনী ও গৃহস্থের স্ত্রী (নারীকূল) পুরুষদের কৃতকর্মের জন্য দুঃখিনী হয়, সেই বংশ অতি শীঘ্র ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। আর যে বংশে স্ত্রীলোকেরা সন্তুষ্ট থাকে, সেই বংশ নিশ্চিতভাবেই শ্রীবৃদ্ধি লাভ করে”। (মনুসংহিতা ৩/৫৭) ভেবে দেখুন, পরিবারের সুখ- শান্তি-সমৃদ ্ধির জন্য এর চেয়ে বড় কথা আর কি হতে পারে? এখানে পুরুষতান্ত্রিকত া চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। নারীকে সর্বদা সুখী রাখতে হবে - এটাই মহর্ষি মনুর নির্দেশ। “যে স্বামী তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট রাখে না, সে তার সমগ্র পরিবারের জন্য দুর্দশা বয়ে আনে। আর যদি স্ত্রী পরিবারের প্রতি সুখী থাকেন, তবে সমগ্র পরিবার শোভাময় হয়ে থাকে।” (মনুসংহিতা ৩/৬২) “যে বংশকে উদ্দেশ্য করে ভগিনী, পত্নী, পুত্রবধূ প্রভৃতি স্ত্রীলোকেরা অনাদৃত, অপমানিত বা বৈষম্যের শিকার হয়ে অভিশাপ দেন, সেই বংশ বিষপান করা ব্যক্তি ন্যায় ধন-পশু প্রভৃতির সাথে সর্বতোভাবে বিনাশপ্রাপ্ত হয়।” (মনুসংহিতা ৩/৫৮) পুরুষতান্ত্রিক যে সমাজে নারীনির্যাতন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার, নারীকে যথেচ্ছা সম্ভোগ, প্রহার বা তাড়িয়ে দেওয়ার বিধানও যে সমাজ অনুমোদন করে, সেই সমাজ যে ক্রমেই বিনাশপ্রাপ্ত হবে - এটাই তো স্বাভাবিক। বিশ্বের প্রতিটি নারীর ব্যক্তিগত জীবনের সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও সর্বাঙ্গীন মঙ্গলের লক্ষ্যে, নারীর অপমান ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মহর্ষি মনু যে দৃপ্ত বাণী উচ্চারণ করেছেন, তাতে তো মনুকে বরং কট্টর নারীবাদী বলেই মনে হয়, তাই না? “যারা ঐশ্বর্য কামনা করে, তারা স্ত্রীলোকদের সম্মান প্রদর্শন দ্বারা খুশী রাখবে এবং উত্তম অলংকার, পোশাক ও খাদ্যদ্বারা প্রীত রাখবে। স্ত্রীজাতিকে সর্বদা পবিত্র হিসেবে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করবে।” (মনুসংহিতা ৩/৫৯) শ্লোকটিকে খুব নারীবাদী মনে হতে পারে, তবে মহর্ষি মনু মোটেও পুরুষতান্ত্রিক বা নারীবাদী কোনটাই নন, তিনি মানবতাবাদী। মনে রাখবেন ‘মনু’ শব্দ থেকেই ‘মানব’ ও ‘মানবতা’ শব্দের উৎপত্তি। “স্ত্রী লোকেরা সন্তানাদি প্রসব ও পালন করে থাকে। তারা নতুন প্রজন্ম বা উত্তরসুরির জন্ম দেয়। তারা গৃহের দীপ্তি বা প্রকাশস্বরূপ। তারা সৌভাগ্য ও আশীর্বাদ বয়ে আনে। তারাই গৃহের শ্রী।” (মনুসংহিতা ৯/২৬) আজও ভারতবর্ষে মহর্ষি মনুর এই শ্লোক থেকেই শিক্ষা নিয়ে মেয়েদের ‘ভাগ্যশ্রী’, ‘ঘরের লক্ষ্মী’ বা ‘গৃহলক্ষ্মী’ বলা হয়। “প্রজন্ম থেকে প্রজন্মোন্তরে স্ত্রীরাই সকল সুখের মূল। কারণ, সন্তান উত্পাদন, ধর্ম পালন, পরিবারের পরিচর্যা, দাম্পত্য শান্তি এসব কাজ নারীদের দ্বারাই নিষ্পন্ন হয়ে থাকে।” (মনুসংহিতা ৯/২৮) অন্যকথায়, মাতৃরূপে, কন্যারূপে, স্ত্রীরূপে, ভগ্নীরূপে কিংবা ধর্মকর্মে অংশীদাররূপে নারীরাই সকল কল্যাণের মূল উত্স বলে মহর্ষি মনু প্রতিপাদন করেছেন। “পতি ও পত্নী মৃত্যু পর্যন্ত একসাথে থাকবেন। তারা অন্য কোন জীবনসঙ্গী গ্রহণ করবেন না বা ব্যাভিচার করবেন না। এই হলো নারী-পুরুষের পরম ধর্ম।” (মনুসংহিতা ৯/১০১) “নারী ও পুরুষ একে ভিন্ন অপরে অসম্পূর্ণ। এজন্য বেদে বলা হয়েছে ধর্মকর্ম পত্নীর সাথে মিলিতভাবে কর্তব্য”। (মনুসংহিতা ৯/৯৬) এই শ্লোকটির কথা একবার ভেবে দেখুন। নারী ছাড়া পুরুষ অসম্পূর্ণ একথা শুধুমাত্র হিন্দুধর্মই বলে থাকে। নারী ছাড়া পুরুষের ধর্মকর্ম সম্পূর্ণ হয় না। বৈদিক যজ্ঞ ও ধর্মপালন স্বামী- স্ত্রী যুগ্মভাবে করতে হয়, কেউ একাকী করতে পারেন না। একারণেই নারীকে বলা হয় পুরুষের ‘অর্ধাঙ্গিনী’ ও ‘সহধর্মিনী’। উল্লেখ্য, মনুসংহিতাই একমাত্র ধর্মশাস্ত্র যেখানে এই বিখ্যাত কথা দুইটি অনুমোদন করা হয়েছে। সঙ্গত কারণেই হিন্দুধর্মে বিবাহবিচ্ছেদ এবং বহুবিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, অন্য ধর্মে নারী পুরুষের অর্ধাঙ্গিনীও নয়, সহধর্মিনীও নয়। এই কথা মানতে নারাজ হলে একটি মাত্র দৃষ্টান্ত দিচ্ছি- মসজিদে নারী-পুরুষ কি একসাথে নামাজ পড়া সম্ভব? এমনকি নিজ গৃহেও স্বামী- স্ত্রী কি একসাথে নামাজ পড়তে পারেন? স্বয়ং বিবেচনা করুন। এবার নারীদের স্বাতন্ত্রের কথায় আসা যাক। স্মর্তব্য, স্বাধীনতা মানে উচ্ছৃঙ্খলা নয়, স্বাতন্ত্র্য মানেই ঔদ্ধত্য নয়। “যে স্ত্রী দুঃশীলতা হেতু নিজে আত্মরক্ষায় যত্নবতী না হয়, তাকে পুরুষগণ ঘরে আটকে রাখলেও সে ‘অরক্ষিতা’ থাকে। কিন্তু যারা সর্বদা আপনা- আপনি আত্মরক্ষায় তত্পর, তাদের কেউ রক্ষা না করলেও তারা ‘সুরক্ষিতা’ হয়ে থাকে। তাই স্ত্রীলোকদের আটকে রাখা নিষ্ফল। স্ত্রীজাতির নিরাপত্তা প্রধানত তাদের নিজস্ব সামর্থ্য ও মনোভাবের উপর নির্ভরশীল।” (মনুসংহিতা ৯/১২) এই শ্লোকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, নিরাপত্তার নামে নারীকে ঘরে আটকে রাখা নিষ্ফল। বিপরীতক্রমে তাকে নিরাপদ রাখতে হলে তাকে অধিকার দিতে হবে এবং সঠিক শিক্ষা- দীক্ষা প্রদান করতে হবে। নারীর সামর্থ্য ও প্রজ্ঞা বৃদ্ধি করতে হবে, মানবিক বিকাশ সাধনে তৎপর হতে হবে, যার ফলশ্রুতিতে তারা যেন আত্মরক্ষায় তৎপর থাকেন, নিজেদের পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। নারী জাতি সম্পর্কে এই হলো মহর্ষি মনুর মতাদর্শ। “নারী অপহরণকারীদের মৃত্যুদণ্ড হবে।” (মনুসংহিতা ৮/৩২৩) “যারা নারী, শিশু ও গুণবান পণ্ডিতদের হত্যা করে, তাদের কঠিনতম শাস্তি দিতে হবে।” (মনুসংহিতা ৯/২৩২) “যারা নারীদের ধর্ষণ করে বা উত্যক্ত করে বা তাদের ব্যাভিচারে প্ররোচিত করে তাদের এমন শাস্তি দিতে হবে যাতে তা অন্যদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করে এবং কেউ তা করতে আর সাহস না পায়।” (মনুসংহিতা ৮/৩৫২) ইভটিজিং এখন প্রধান একটা সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে, যার বিরুদ্ধে কঠোর কোন শাস্তির ব্যবস্থা নেই। কিন্তু ইভটিজিং, অপহরণ ও ধর্ষণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান কিন্তু সেই মনুর যুগ থেকেই প্রচলিত ছিল। “যদি কেউ মা, স্ত্রী বা কন্যার নামে মিথ্যা দোষারোপ করে তবে তাকে শাস্তি দিতে হবে।” (মনুসংহিতা ৮/২৭৫) অথচ নারীকে এই মিথ্যা দোষারোপ করেই প্রতিবছর হাজার হাজার নারীকে ‘অনার কিলিং’ করা হয়। অর্থাৎ হিন্দুধর্মের বিপরীত বিধানও অনেক সমাজে প্রচলিত আছে। “যদি কেউ কোন ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া মা, বাবা, স্ত্রী বা সন্তান ত্যাগ করে, তাকে কঠিন দণ্ড দিতে হবে।” (মনুসংহিতা ৮/৩৮৯) ভেবে দেখুন, পথে- ঘাটে যত অনাথ শিশু দেখেন, যত নিশিকন্যা দেখেন, যত পিতৃ-মাতৃতুল্য বৃদ্ধ বা বৃদ্ধাকে হাত পেতে ভিক্ষা করতে দেখেন, তাদের মাঝে কতজনকে আপনি হিন্দু দেখেছেন? হিন্দুদের মানবিক মূল্যবোধ অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয় কি? নিজেই বিচার করুন। “যদি কোন নারীকে সুরক্ষা দেবার জন্য পুত্র বা কোন পুরুষ পরিবারে না থাকে, অথবা যদি সে বিধবা হয়ে থাকে, যে অসুস্থ অথবা যার স্বামী বিদেশে গেছে, তাহলে রাজা তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। যদি তার সম্পত্তি তার কোন বন্ধু বা আত্মীয় হরণ করে, তাহলে রাজা দোষীদের কঠোর শাস্তি দেবেন এবং সম্পত্তি ঐ নারীকে ফেরত দেবেন।” (মনুসংহিতা ৮/২৮-২৯) অর্থাৎ নারীর নিরাপত্তা বিধান ও অধিকার সংরক্ষণে দেশের সরকারকেও সদা তৎপর থাকতে হবে। “নববিবাহিতা বধূ, কন্যা এবং গর্ভবতী মহিলাদের অতিথি ভোজনের পূর্বেই ভোজন প্রদান করতে হবে।” (মনুসংহিতা ৩/১১৪) “বাহনে বা যানে আরোহী ব্যক্তির পক্ষে বয়স্ক ব্যক্তি, ক্লান্ত ব্যক্তি, ভারবাহী ব্যক্তি, বর, রাজা, স্নাতক এবং স্ত্রীলোকদের পথ ছেড়ে দেয়া কর্তব্য।” (মনুসংহিতা ২/১৩৮) এই মানবিক ভদ্রতা জ্ঞানটুকু আর কোন শাস্ত্রে আছে? Ladies First তত্ত্বটা কিন্তু তাহলে বিদেশী নয়, বরং ভারতীয় রীতি বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

জাকির নায়েকের মিথ্যাচার :হিন্দুধর্মে বহুবিবাহ অনুমোদিত



জাকির নায়েকসহ ইসলামিক ও অন্যান্য ধর্মের অনেক অপপ্রচারকারীরাই নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য দাবী করে যে হিন্দুধর্মে বহুবিবাহ অনুমোদিত।এর মাধ্যমে তাদের নিজেদের ধর্মগুলোতে বহুবিবাহের অনুমোদনের পক্ষে একটি সমর্থন পাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা চালায় তারা।প্রকৃত সত্য দেখে নেয়া যাক।

ঋগবেদ এর তিনটি মন্ত্র যথাক্রমে ১.২৪.৭,৪.৩.২ ও ১০.৭১.৪ এ বলা হয়েছে "যায়েব পত্য উষতে সুভাসহ অর্থাত্‍ যেভাবে জ্ঞানীগন জ্ঞানপ্রাপ্ত হন ঠিক সেভাবে একক পতি-পত্নীযুক্ত সংসার আনন্দ ও সুখ লাভ করে।

ঋগবেদ ১০.৮৫.২৩ এ বলা হয়েছে স্বামী ও স্ত্রীর সবসময় উচিত পুনরায় বিয়ে না করার ব্যপারে সংযমী হওয়া।

অথর্ববেদ ৭.৩৮.৪ বলেছে "স্বামীর উচিত শুধু একমাত্র স্ত্রীর প্রতি অনুরক্ত থাকা।দ্বিতীয় কোন নারীর প্রতি অনুরাগ তো দুরে থাক,অন্যকোন নারী সম্বন্ধে তার আলোচনাও করা উচিত নয়।"
বহুবিবাহ নিষিদ্ধের এর চেয়ে স্পষ্ট নিদর্শন আর কি থাকতে পারে!

ঋগবেদ ১০.১০৫.৮ বলেছে যে একাধিক স্ত্রীর অস্তিত্ব মানেই জাগতিক সকল দুঃখের আনায়ন।

ঋগবেদ ১০.১০১.১১ বলেছে দুই স্ত্রীযুক্ত ব্যক্তিকে সেভাবেই কাঁদতে হয় ঠিক যেভাবে চলমান রথের ঘোড়া উভয় দিক থেকে চাবুক এর আঘাতে হ্রেষা রব করে!

ঋগবেদ ১০.১০১.১১ এও বলেছে যে একাধিক স্ত্রী জীবনকে লক্ষহীন করে তোলে।

অথর্ববেদ ৩.১৮.২ বলেছে একজন নারীর কখনো যেন কোন সতীন(Co-wife) না হয়।

এখন আসা যাক জাকির নায়েক এর দ্বিতীয় ভন্ডামী যুক্তি যা তিনি দিয়েছেন যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ ও অতুলনীয় শ্রীরামচন্দ্রকে নিয়ে।তিনি দাবী করেছেন যে মহাভারত অনুযায়ী শ্রীকৃষ্ণের স্ত্রীসংখ্যা নাকি ১৬১০৮ এবং শ্রীকৃষ্ণ যদি বহুবিবাহ করতে পারে তাহলে সাধারন হিন্দুদের সমস্যা কি!
উত্তরে বলা যেতে পারে যে সব জায়গায় ইসলামিক তাকিয়ার ভন্ডামী চলেনা জাকির সাহেব!শ্রীকৃষ্ণের বহুবিবাহের এই ভূল তথ্যটি পাওয়া যায় দুইভাই জয়দেব এর লেখা গীতগোবিন্দ ও বোপদেব এর লেখা ভাগবতাম নামক একটি গ্রন্থে যা কোনভাবেই বৈদিক কোন গ্রন্থ নয় এবং শ্রীকৃষ্ণের জীবনী সম্বন্ধে একমাত্র গ্রহনযোগ্য গ্রন্থ ব্যসদেব এর মহাভারত।সেই ব্যসদেব মহাভারতে তাঁর সম্বন্ধে কি লেখা আছে দেখা যাক-
"শ্রীকৃষ্ণের একমাত্র স্ত্রী ছিলেন রুক্সিনীদেবী যিনি ছিলেন পরম ধার্মিক,বিদূষী ও পতিব্রতা।সন্তান জন্মদানের পূর্বে তাঁরা উভয়েই বদরিকাশ্রমে যান ও দীর্ঘ বারবছর কঠোর ব্রহ্মচর্য পালন করেন।এরপর রুক্সিনীদেবী এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন যার নাম রাখা হয় প্রদ্যুম্ন।"
[ব্যসকৃত মহাভারত,সৌপ্তিকাপর্ব, ২/২৯-৩০,তথ্যসূত্র- শ্রীকৃষ্ণের জীবনী নিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ৩৬ বছরের সুদীর্ঘ গবেষনালব্ধ ফলাফল]

এখন আসা যাক শ্রীরামচন্দ্রের ব্যপারে তার দাবী নিয়ে।অজ্ঞ জাকির দাবী করেছেন যে যেহেতু শ্রীরামচন্দ্রের পিতা রাজা দশরথ চারটি বিয়ে করেছিলেন সেহেতু হিন্দুধর্মে চারটি বিয়ে অনুমোদিত!এক্ষনে প্রমানিত হল যে হিন্দুধর্ম সম্বন্ধে জাকিরের নূন্যতম জ্ঞান ও নেই!
রামায়ন ও মহাভারতকে বলা হয় হিন্দুধর্মের প্রামান্য ধর্মশাস্ত্র অর্থাত্‍ এই দুটি শাস্ত্রে বর্ণিত ঘটনা ও তাদের ফলাফলগুলোকে পর্যবেক্ষন করে একজন হিন্দু তার জীবনবিধি সম্বন্ধে দিকনির্দেশনা পেতে পারে।বেদে যেসকল জীবনবিধি দেয়া হয়েছে সেগুলো মানা বা না মানার বাস্তব ফলাফল প্রতিফলিত হয়েছে এই গ্রন্থ দুটিতে।

রাজা দশরথের ক্ষেত্রে কি দেখতে পাই?অলঙ্ঘনীয় বেদ নির্দেশিত এককবিবাহ না মেনে তিনি একাধিক বিয়ে করেন আর ফলশ্রুতিতে দুঃখময় অকালমৃত্যু,ছেলের বনবাস,রাজ্যময় শোক এর মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।এ থেকে একজন হিন্দু বুঝতে পারেন যে বেদে বহুবিবাহের নিষেধাজ্ঞা কতটা যুক্তিসংগত!

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে আপনারা সকলেই জানেন যে বহুবিবাহের ক্ষতিকর দিকের শেষ নেই।জনসংখ্যা বিস্ফোরন, সামাজিক বিশৃঙ্খলা,সেক্স ট্রান্সমিটেড ও কমুনিকেবল ডিসিস এর প্রাদুর্ভাবসহ অসংখ্য ক্ষতিকর প্রভাব আছে এর।বর্তমান যুগে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা রোধে যেখানে সভ্য দেশগুলো বহুবিবাহকে নিরুত্‍সাহিত করছে সেখানে এইসব অজ্ঞ ও উগ্র ধর্মান্ধরা তাদের মধ্যযুগীয় এ বর্বর সভ্যতাকে অন্যদের উপর চাপানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে!

ভারত সরকার এই বিষয়টিকে মাথায় রেখে ১৯৫৪ সালে আইন করে হিন্দুদের বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করে।সুতরাং এইসব ভন্ডদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান।ছড়িয়ে দিন বৈদিক সত্যের এই বানীকে।

ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

জাকির নায়েককে ন্যাংটা করে দিল কোচিপোস্ট : প্রতি মিনিটে পাঁচটি ভুল বলেন জাকির নায়েক


নিজের প্রতিটি বক্তৃতায় ‘পণ্ডিত’ জাকির নায়েক হাজারও তথ্য দিয়ে শ্রোতা-দর্শকদের বিমোহিত করেন। তার বক্তব্যে থাকে তত্ত্ব ও তথ্যের প্রাচুর্য। এ কারণে সাধারণ শ্রোতারা বিশ্বাস করতে প্রলুব্ধ হন যে, জাকির নায়েক আসলেই একজন জবরদস্ত পণ্ডিত, জ্ঞানী লোক। কিন্তু কোচিপোস্ট এই জাকির নায়েকের পাঁচ মিনিটের একটি বক্তব্য বিশ্লেষণ করে বলছে, তিনি আসলে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমিনিটে কমপক্ষে পাঁচটি ভুল করেন।

পাঠকদের সুবিধার্থে পুরো ক্লিপটি বাংলায় ভাষান্তর করে দেওয়া হলো।

জাকির নায়েক তার এই বক্তৃতায় বলেন, ডারউইন গবেষণা করতে কেলাট্রপিক নামের একটি দ্বীপে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে কেলাট্রপিক দ্বীপ বলতে পৃথিবীতে কিছু নাই। ডারউইন আসলে গিয়েছিলেন গেলাপোগাস দ্বীপে।

* এরপর জাকির নায়েক বলেন, ডারউইন দেখতে পান, গেলাপোগাস দ্বীপের পাখিরা একটি বাস্তুতন্ত্রের সদস্য হিসেবে খাদ্য প্রাচুর্যে বসবাস করছেন। কিন্তু সত্য হচ্ছে, ডারউইন আসলে দেখতে পেয়েছিলেন, পাখিগুলো ভিন্ন ভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের সদস্য হিসেবে বসবাস করছে।

*এ প্রসংগে জাকির নায়েক আরও বলেন, বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য প্রাচুর্যের ওপর ভিত্তি করে পাখিদের ঠোঁটের আকার ছোট-বড় হয়। কিন্তু সঠিক তথ্য হচ্ছে, ডারউইন বলছেন, বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য প্রাচুর্যের ওপর ভিত্তি করে পাখির আকার, স্বর, রঙ ও খাদ্যাভাসও বদলে যায়।

*এরপর জাকির নায়েক বলেন, ডারউইন পাখিদের আচরণের এই পরিবর্তন শুধু একটি প্রজাতির পাখিতে লক্ষ্য করেছিলেন। কিন্তু সঠিক তথ্য হচ্ছে- ডারউইন আসলে এই পরিবর্তন চৌদ্দটি ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির ক্ষেত্রে খেয়াল করছেন।

*এবার জাকির নায়েক বলেন, চার্লস ডারউইন এই কথাগুলো থমাস থর্মটন নামের একজন বন্ধুকে চিঠি লিখে পাঠান। কিন্তু সত্য হচ্ছে, ডারউইনের থমাস থর্মটন নামের কোন বন্ধু কোন কালেই ছিল না।

*জাকির নায়েক বলেন, চার্লস ডারউইন নিজেই বলছেন, প্রজাতির বৈশিষ্ট্য বদলে যাওয়ার ধারাবাহিকতা স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে না। ডারউইন তা স্বীকার করলেও মেনে নেননি। কিন্তু সত্য হচ্ছে, প্রজাতির ধারাবাহিকতা স্পষ্ট বুঝতে না পারার সাথে বিবর্তনবাদ মিথ্যা হয়ে যাওয়ার কোন সম্পর্ক নাই। বরং চার্লস ডারউইন দেখিয়েছেন, কিভাবে এই ধারাবাহিকতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

*জাকির নায়েক এ প্রসঙ্গে আরও বলেন- এর কারণ হচ্ছে, চার্চ বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে ছিল। কিন্তু সত্য হচ্ছে, চার্চ কখনই বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে ছিল না।

* জাকির নায়েক বলেন, চার্চ গ্যালিলিওকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। কিন্তু সত্য হচ্ছে, চার্চ কখনই গ্যালিলিওকে মৃত্যুদণ্ড দেয়নি। আসলে তাকে ১৬৩৩ সালে চার্চ গৃহবন্দী করেছিল। এর আট বছর পর গ্যালিলিও গৃহবন্দী অবস্থায় মারা যান।

* জাকির নায়েক এবার বলেন, ডারউইন বেঁচে থাকাকালীন অন্য বিজ্ঞানীরা বিবর্তনবাদকে সমর্থন করেছিল। এই সমর্থন করার কারণ ছিল, তত্ত্বটি বাইবেলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাচ্ছে। কিন্তু তত্ত্বটি সত্য না মিথ্যা তা বিজ্ঞানীরা যাচাই করতে যাননি। প্রকৃতপক্ষে ডারউইনের জীবদ্দশায় তো নয়ই তিনি মারা যাওয়ার দীর্ঘকাল পরে বিজ্ঞানীরা এই তত্ত্বটি গ্রহণ করতে শুরু করে।

*জাকির নায়েক বলেন, ডারউইন মানুষের বিবর্তন বোঝাতে চার প্রজাতির হোমিনাইটদের নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিন্তু সত্য হচ্ছে- ডারউইনের আলোচনায় হোমিনাইট নামের কিছু ছিল না। ডারউইন আসলে হোমোনয়েডদের নিয়ে আলোচনা করেছেন। ডারউনের মতে, এদের সংখ্যা চার নয় চৌদ্দ প্রজাতির।

*জাকির নায়েক বলেন, এই হোমোনয়েডদের একটি হচ্ছে ডসনোফাইটিকেস্ট। ডসনোফাইটিকেস্ট তিন দশমিক পাঁচ মিলিয়ন বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যায়। ওই সময়টাকে বরফ যুগ বলে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু সত্য হচ্ছে- কোন প্রজাতির হোমনয়েডকেই এই ধরণের নামে নামকরণ করা হয়নি। এছাড়া জাকির নায়েক যেমন বলেছেন- বরফ যুগ বা আইস এজ তিন দশমিক পাঁচ মিলিয়ন বছর আগে এসেছিল তা সঠিক নয়, বরফ যুগ এসেছিল এক দশমিক ছয় মিলিয়ন বছর আগে।

*জাকির নায়েক বলেন, ডসনোফাইটিকেস্টদের পরই পৃথিবীতে হোমো সেপিয়েন্সদের আবির্ভাব হয়। এরা আবার ৫ লাখ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু সঠিক তথ্য হচ্ছে- হোমো সেপিয়েন্স বলতে আসলে আধুনিক মানুষকেই বোঝান হয়। জাকির নায়েক নিজেও হোমো সেপিয়েন্স। অথচ জাকির নায়েক বলছেন, হোমো সেপিয়েন্স বিলুপ্ত হয়ে গেছে পাঁচ লাখ বছর আগে।

* জাকির নায়েক বলেন, হোমো সেপিয়েন্সদের পরপরই আবির্ভাব হয় নিয়ানডার্থালদের। এরা এক লাখ চল্লিশ হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু সঠিক তথ্য হচ্ছে- নিয়ানডার্থালরা ৩০ হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে।

* জাকির নায়েক বলেন, নিয়ানডার্থালদের বিলুপ্তির পরপরই মানুষের বিবর্তনের চতুর্থ ধারায় ক্রোম্যাগননরা আবির্ভূত হয়। কিন্তু সঠিক তথ্য হচ্ছে- ক্রোমেগনন বলতে আলাদা কিছু নাই। ক্রোম্যাগনন বলতে আসলে হোমো সেপিয়েন্সদেরকেই বোঝান হয়।

* জাকির নায়েক বলেন, এই স্তরগুলোর মধ্যে কোন ধারাবাহিকতাই নাই। বিবর্তনে কোন ধারাবাহিকতা নাই বলে জাকির নায়েক বারবার বলতে থাকলেও বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে বিবর্তনে ধারাবাহিকতা আছে।

* জাকির নায়েক বলেন, বিজ্ঞামী আলবার্ট গোর্গি ভিটামিন সি উদ্ভাবন করেছিলেন। এই বিজ্ঞানী গর্গি, ডারউইনের তত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করতে ‘ক্রেজি এপ এন্ড ম্যান’ নামের একটি বই লিখেছেন। কিন্তু সত্য হচ্ছে- বিজ্ঞানী গর্গি ভিটামিন সি উদ্ভাবন করেননি। সত্য হচ্ছে- ‘ভিটামিন সি’ প্রাকৃতিক উপাদান। ভিটামিন সি উদ্ভাবন করা হয়নি, আবিষ্কার করা হয়েছে। আর তিনি ‘ক্রেজি এপ এন্ড ম্যান’ নামের কোন বই লিখেননি। তার বইটির নাম ছিল ‘ক্রেজি এপ’ আর এই বইটি বিবর্তনবাদের বিরুদ্ধে তো নয়ই, এমনকি বইটি বিবর্তনবাদ নিয়েও না। বইটির বিষয় ছিল সমাজবিজ্ঞান।

* জাকির নায়েক বলেন, রুপার্ট এলবার্ট নামের একজন বিজ্ঞানী ডারউইনের বিবর্তনবাদের বিপরীতে আরও একটি তত্ত্ব দেন। অথচ সত্য হচ্ছে- বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেছেন এমন কোন বিজ্ঞানীকেই খুঁজে পাওয়া যায় না।

* জাকির নায়েক বলেন, বিজ্ঞানী ফ্র্যাঙ্ক সেলসব্যারী বলেছেন, ডারউইনের তত্ত্বে বিশ্বাস করাটা অযৌক্তিক। আদতে ফ্র্যাঙ্ক সেলসব্যারী নামের কোন বিজ্ঞানীকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

* জাকির নায়েক বলেন, স্যার হুয়াইটমিট নামের আরেক জন বিজ্ঞানী ডারউইনের বিবর্তনবাদের বিরুদ্ধে বই লিখেন। অনুসন্ধান করে দেখা গেছে- স্যার হুয়াইটমিট নামের কোন বিজ্ঞানী নেই, ছিলেনও না।

কৃতজ্ঞতা: নতুন দিন ডটকম
দেখতে পারেন এখানেও : http://www.notun-din.com/?p=11276